মুসলিম বিশ্বের কিংবদন্তী যোদ্ধা আবু সালেহ,


 মুসলিম বিশ্বের একজন কিংবদন্তি যোদ্ধা হলেন আবু সালেহ (বাগদাদ স্নাইপার)  যার  গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল ৬০০ এর অধিক মার্কিন সৈন্য। 


তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আদেশে মার্কিন সৈন্যরা ইরাক দখল করে নেয়। ইরাক দখলের দুই বছর পর ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারীর দিকে আত্মপ্রকাশ ঘটে বাগদাদ স্নাইপার নামের এক মুজাহিদের।

 তিনি জোবা(Juba/Joba) নামেই বিশ্বে অধিক পরিচিত। তিনি নিজেকে ডাকতেন আবু সালেহ। তাঁকে "Eagle Eye" ও উপাধী দেওয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের মতো, পরিবারও জানত না তাঁর অপারেশনের কথা। 


আবু সালেহ বা জুবা  মার্কিন সৈন্যদের বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ করে ইতিহাস খ্যাত হয়ে আছেন। 

তিনি শুধুমাত্র একবার গুলি করতেন আর তাতে মৃত্যুর কোলে পড়ত একজন মার্কিন সৈন্য।  

তিনি কখনও দুইবার গুলি ছোঁড়তেন না। 

ফলে তাঁকে হাজার চেষ্টা করেও ধরতে পারেনি মার্কিনীরা।


মার্কিনীরা যখন তাঁর অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করতে লাগল তখন তিনি তাঁর শুটিং ভিডিও করতে লাগলেন।

 প্রতিবার হত্যা করার পর মার্কিন সৈন্যের পাশে একটি চিরকুট লিখে যেতেন। সেখানে লেখা থাকত, "রক্ত দিয়ে যা নেওয়া হয়েছে, রক্ত ছাড়া ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।" 


তাঁর শুটিং এতই বেশি নিখুঁত ছিল যে প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকেও তিনি মার্কিনীদের হত্যা করেছেন। 


পরবর্তীতে তিনি শুটিং স্টাইলে পরিবর্তন আনেন। তাঁর গুলিতে কোনো মার্কিন সৈন্য আহত হলে তিনি আর গুলি না করে অপেক্ষা করতেন এবং আহত সৈন্যকে যে বাঁচাতে আসত তাকেও এক সাথে হত্যা করতেন। 


একবার মার্কিন বাহিনী জুবাকে হত্যা করার জন্য তাঁর পিছু লেগে যায়। 

অনেকক্ষণ গুলাগুলি হওয়ার পর জুবার দিক থেকে গুলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। 

ফলে মার্কিনীরা ধারণা করেছিল জুবা মারা গেছে। তাই তারা টেলিফোনে সাহায্য চেয়ে কিছু সৈন্য আনে।

 সৈন্যরা মাটিতে নামার আগ মুহুর্তে হঠাৎ একটি গোলা এসে হ্যালিকপ্টারসহ সমস্ত মার্কিন সৈন্য ধ্বংস করে দেয়। তারপর তারা বুঝতে পারে আসলেই তারা জুবাকে মারতে পারেনি।

 পরবর্তীতে আমেরিকানরা  জুবাকে প্রধান ভিত্তি করে The Wall(2017) নামে একটি মুভি তৈরি করে। মুভিটিতে জুবাকে বিকৃতভাবে তোলে ধরা হয়েছে।  


লেখাঃ Md Jalal Uddin Sami

ছবিঃ প্রতিকী

Post a Comment

0 Comments