শুনলেই অবাক হবেন যে হোটেলটি উসমান (রাঃ) এর বিস্তারিত জানতে লিঙ্কে ক্লিক করুন

 এই সুবিশাল হোটেলের মালিক হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু

---------

কী? শিরোনাম দেখে নিশ্চয় অবাক হয়েছেন তাই না? জ্বী। অবাক হবারই কথা। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে পবিত্র ইসলাম ধর্মের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাহলে তিনি আবার এই যুগে এতো বড় বিল্ডিং তথা হোটেলের মালিক হন কী করে? তবে এটাই সত্য যে, এই বিল্ডিংয়ের মালিক তিনি। তাছাড়া তাঁর নামে পবিত্র মদিনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সুলতানা নামক এলাকায় মাজরাআ বীরে উসমান নামে বিশাল একটা খেজুর বাগান আছে। এছাড়াও তাঁর নামে সৌদি আরবের এক ব্যাংকে একটা একাউন্ট এখনো সক্রিয় আছে। আমার কথাগুলো অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হচ্ছে তাই না...? 


তাহলে এবার জেনে নিন বিস্তারিত..... 


পবিত্র ইসলামের তৃতীয় খলিফা ও প্রিয় রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদরের মেয়ের জামাতা হযরত উসমান বিন আফফান রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু ছিলেন ধনী ও দানশীল ব্যক্তি। জীবদ্দশায় তিনি মানবকল্যাণে বহু ধন সম্পদ দান ও ওয়াকফ করে যান। তাঁর সেসব দান এবং ওয়াকফকৃত সম্পদ দ্বারা মানুষ এখনো উপকৃত হচ্ছে। 


ঐতিহাসিক রুমা কূপ: 

মুসলমানরা মদিনায় হিজরত করার পর সেখানে তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। মদিনায় এক ইহুদির একটি কূপ ছিল। সে মুসলিমদের কাছে চড়া মূল্যে পানি বিক্রি করত। কূপটির নাম ছিল রুমা। মহানবী ﷺ বিষয়টি জানতে পেরে ঘোষণা দিলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে এই কূপটি কিনে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দেবে? এটা যে করবে আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে একটি ঝরনা দান করবেন। ঘোষণা শুনে উসমান (রা.) ইহুদির কাছে কূপ বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু ইহুদি বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর উসমান (রা.) অর্ধেক কূপ বিক্রির প্রস্তাব করলেন; এভাবে যে কূপ থেকে একদিন ইহুদি পানি নেবে অন্যদিন তিনি। ইহুদি এতে সম্মত হলো। উসমান (রা.) কূপ কেনার পর বিনা মূল্যে পানি বিতরণ শুরু করেন, এতে ইহুদির পানির ব্যবসা বন্ধ হলো এবং তিনি পরবর্তীতে পুরো কূপ বিক্রি করে দিল। ৩৫ হাজার দিরহামের বিনিময়ে উসমান (রা.) পুরো কূপের মালিকানা লাভ করেন এবং তা থেকে মুসলমানরা বিনা মূল্যে পানি নিত। পরে সর্বসাধারণের পানি পানের জন্য সেই কূপটিওয়াকফ করে দেন তিনি।


রুমা কূপ থেকে আধুনিক হোটেল : 

আশপাশের জায়গাও কূপের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিছুকাল পরে সেখানে বেশ কিছু খেজুরগাছ বড় হয়ে উঠল। পরে একসময় এসব গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ খেজুর উৎপন্ন হয়। উসমানি সুলতান ও সৌদি শাসকদের পরিচর্যায় এখন এখানে প্রায় ১৬ শর মতো খেজুরগাছ আছে। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পরে কূপ ও এ বাগান কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবছর বাগান থেকে আহৃত খেজুর বিক্রি করে যে অর্থ উপার্জিত হয়, তার অর্ধেক এতিম-গরিব এবং মানব কল্যাণের জন্য দান করা হয়। বাকি অর্ধেক উসমান (রা.)-এর নামে একটি ব্যাংক একাউন্টে জমা হতে থাকে। সেই একাউন্টটি পরিচালনা করে সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়।


এভাবে ব্যাংকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয় যে তা দিয়ে মসজিদ-ই-নববী ﷺ -এর পাশেই আকর্ষণীয় একটি জায়গা কিনে সেখানে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ করা হয়। যার নেমপ্লেটে লেখা আছে ‘মালিক সাইয়্যিদুনা উসমান (রা.)। যেহেতু তাঁর ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থে এটি নির্মিত, তাই মালিক হিসেবে তাঁর নামই উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে হোটেলটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। হোটেলের আয়ও উসমান (রা.)-এর অন্য সম্পদের মতো একভাগ এতিম-মিসকিনদের দান করা হয় এবং আরেক ভাগ তাঁর নামে চলিত একাউন্টে জমা রাখা হয়।

আর এভাবেই তিনি কবরে থেকেও দুনিয়ায় ব্যাংক একাউন্ট, বিল্ডিং ও বিশাল খেজুর বাগানের মালিক। ভাবা যায়....? 


শিক্ষা; দান করলে কখনো ধন সম্পদ কমে না। বরং বাড়ে।


Post a Comment

0 Comments